উজ্জ্বল নামের ছোট্ট ছেলে থাকতো পুরাতন আমলে নির্মিত একটি বাড়িতে, ইট চুন শুর্কি দিয়ে তৈরি সেই বাড়ি। বাড়ি ও দালান ছিল মূলত একজন মুসলিম জমিদারের, সেই বাড়িতে ছিল একটি নৌকা, সেই নৌকা করে উজ্জ্বল তার বন্ধুদের নিয়ে মজার এক অভিযানে বের হলো। তাদের উদ্দেশ্য ছিল উত্তরের এক পাহাড়ের ওপারে লুকানো এক গুপ্তধন খুঁজে বের করা।
উড়ন্ত নৌকা যখন উঁচুতে উড়ছিল, তখন তারা নিচে একটি ছোট্ট গ্রাম দেখতে পেল। গ্রামের মানুষেরা খুব সমস্যায় ছিল। পানির অভাবে ফসলের ক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছিল, কারণ খাল শুকিয়ে গেছে।
উজ্জ্বল আর তার বন্ধুরা উড়ন্ত নৌকা থেকে নিচে নামল। গ্রামের বৃদ্ধ এক দাদু কাছেই বসেছিলেন। তিনি বললেন, “জানো সোনামণিরা, অনেক বছর আগে আমাদের বাংলার গ্রামের মানুষেরা খাল কেটে বা পুকুর বানিয়ে জল ধরে রাখত। এটা ছিল তাদের উপায়, যা দিয়ে তারা ফসল ফলাতো। তারা প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলত। শুধু বাংলাতেই নয়, পৃথিবীর অন্য দেশেও খুব বুদ্ধিমান মানুষেরা ছিলেন। মুসলিম বিজ্ঞানী উমর খৈয়াম ছিলেন একজন অসাধারণ গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং কবি। তিনি এমন একটি পঞ্জিকা তৈরি করেছিলেন যা ছিল তখনকার দিনের সবচেয়ে নির্ভুল পঞ্জিকা। উমর খৈয়াম আকাশের দিকে তাকিয়ে সূর্যের গতিপথ দেখতেন আর হিসাব করতেন কখন কোন ঋতু আসবে, বা কখন বীজ বুনলে ভালো ফসল হবে। তার উজ্জ্বল বুদ্ধি মানুষকে অনেক সাহায্য করেছিল।”
উজ্জ্বল তখন উমর খৈয়ামের কথা শুনে ভাবল, “যদি আমরা উমর খৈয়ামের মতো বুদ্ধি খাটাতে পারি, তাহলে এই গ্রামের মানুষদের সাহায্য করতে পারব!” সে আর তার বন্ধুরা মিলে দেখল, পাহাড়ের চূড়ায় একটি ঝরনা আছে, কিন্তু তার পানি নিচে আসছে না। তারা তখন উড়ন্ত নৌকার শক্তি ব্যবহার করে কিছু পাথর সরিয়ে দিল, আর ঝরনার পানি খালের দিকে বইতে শুরু করল।
গ্রামের মানুষেরা খুব খুশি হলো। তারা উজ্জ্বল আর তার বন্ধুদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাল। উজ্জ্বল বুঝল, উপকারী বুদ্ধি আর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে অনেক বড় সমস্যার সমাধান করা যায়। সেই থেকে উজ্জ্বল শুধু উড়ন্ত নৌকা নিয়েই ঘুরে বেড়াত না, সে তার চারপাশে থাকা সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য উৎসাহী হয়ে উঠল।