রবিবার , ৭ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

শিশুসাহিত্য

আবিরের টেলিস্কোপ

হেমন্তের এক সন্ধায়, আবির খেলনা টেলিস্কোপ দিয়ে আকাশ দেখছিল। তার খুব আগ্রহ, কবে সে চাঁদে যেতে পারবে! আবিরের বড় বোন আয়েশা তাকে বলল, “আবির, জানিস, অনেক বছর আগে আবু নাসের আল-ফারাবি নামের একজন মুসলিম বিজ্ঞানী ছিলেন? তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে অনেক কিছু আবিষ্কার করেছিলেন। তার গবেষণার ফলেই আমরা আকাশের তারা-গ্রহদের সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারি।”

আবির ভাবল, “আল-ফারাবি যদি এত আগে টেলিস্কোপ ছাড়াই এত কিছু জানতে পারেন, তাহলে তো আমি আরও অনেক কিছু আবিষ্কার করতে পারব!”

আরিফের দাদা ভাই তাদের এই আলোচনা শুনে কাছে এসে বলল, “হ্যাঁ রে দাদুভাই, আল-ফারাবি ছাড়াও আমাদের বাংলার গ্রামের মানুষেরা প্রাচীনকাল থেকেই নানা কিছু আবিষ্কার করেছে। যেমন, তারা নদীর জল দেখে বলে দিতে পারত কখন বন্যা আসবে, বা বাতাস দেখে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিত। এটা ছিল তাদের বিজ্ঞানের প্রতি আসল আগ্রহ।”

দাদুভাই আবিরকে নিয়ে তার ঘরে প্রবেশ করলো তার আলমারিতে একটি পুরনো রেডিও দেখালেন। তিনি বললেন, “এটাকে রেডিও বলে। একসময় এটি দিয়ে অনেক দূরে থাকা মানুষের কথা শোনা যেত। এই যে কথা শোনা, এটিও কিন্তু এক বিজ্ঞানীর আবিষ্কার। তিনি বিদ্যুৎ তরঙ্গকে কাজে লাগিয়ে এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন।”

আবির অবাক হয়ে বলল, “তাহলে তো সব আবিষ্কারের পেছনেই এমন মজার মজার গল্প লুকিয়ে আছে!”

দাদুভাই হাসলেন, “ঠিক ধরেছো! ছোট ছোট আগ্রহ আর নতুন কিছু জানার চেষ্টাই নতুন নতুন আবিষ্কারের জন্ম দেয়। আমাদের চারপাশে যা কিছু দেখি, এমনকি যে ভাষায় আমরা কথা বলি, সেই বাংলা ভাষাও তো হাজারো বছরের আবিষ্কারের ফল।

আবির তখন ভাবল, “আমিও বড় হয়ে এমন কিছু আবিষ্কার করব, যা দিয়ে মানুষের অনেক উপকার হবে। যেমন করে প্রাচীনকালের জ্ঞানী মানুষরা আকর্ষণীয় সব কাজ করে গেছেন, আমিও সেই পথ অনুসরণ করব।”


আরও