জার্মানিতে রবীন্দ্রনাথের কাব্যিক যাত্রা নিয়ে ‘স্মৃতির পথ ধরে’

লেখক: Bangla Charu
প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬

জার্মান সংস্থা গ্যোটে-ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশের উদ্যোগে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গীত, কবিতা ও ভ্রমণ ইতিহাস নিয়ে এক বিশেষ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে গ্যোটে-ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে গানে–কবিতায় ও ধারা বর্ণনায় তুলে ধরা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে জার্মানির দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর সম্পর্ক।

রবীন্দ্রনাথের জার্মানি সফর ও সেসব সফরে রচিত গানগুলো নিয়ে সাজানো সংগীতায়োজনে গান পরিবেশন করেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সঞ্চিতা পাল। রবীন্দ্রসংগীতের বাংলা গানের পাশাপাশি ইংরেজি ভাষ্যে তুলে ধরা হয় এসব গানের পটভূমি।

শিল্পীর পরিবেশনা শুরু হয় ‘আমারে তুমি অশেষ করেছ’ গানটি দিয়ে। পরপর ১০টি গান পরিবেশন করেন শিল্পী। গানের পরিবেশনার ফাঁকে ফাঁকে প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন স্থপতি ধ্রুব জ্যোতি।
রবীন্দ্র সঙ্গীতের পাশাপাশি এই আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল গ্যোটে-ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের পরিচালক ফ্রঙ্ক ভারনারের পরিবেশনা।

অনুষ্ঠানে গ্যোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাব জার্মানিতে ছিল সুদূরপ্রসারী ও তাৎপর্যপূর্ণ। কয়েক দশক জুড়ে তিনি সেখানকার প্রখ্যাত চিন্তাবিদ ও বিদ্বজ্জনের সঙ্গে বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে যুক্ত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ১৯২৬ সালে রবীন্দ্রনাথের রচিত গানগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ এসব গান রচনার শতবর্ষ পূর্ণ হচ্ছে এ বছর।

আয়োজকরা জানান, বাংলা ও জার্মান সংস্কৃতির পারস্পরিক বিনিময়কে উদ্‌যাপন ও দর্শক–শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরতে এই ব্যতিক্রমী সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে। যার অন্যতম লক্ষ্য ছিল দর্শন ও সাহিত্যের এক অনন্য বঙ্গ-জার্মান সংলাপ।

সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় শুরু হওয়া এই আয়োজন চলে দুই ঘণ্টাব্যাপী। হলভর্তি কয়েক শ’ দর্শক–শ্রোতা পুরো এই আয়োজন উপভোগ করেন পিনপতন নীরবতায়। গান, কবিতার পাশাপাশি ধারা বর্ণনায় তারা ফিরে যান শর্তবর্ষ আগে রবীন্দ্রনাথের জার্মান ভ্রমণকালে।

পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে অন্যান্য পরিবেশনার মধ্যে অক্টোপ্যাডে ছিলেন বিদ্যুৎ রায়, তবলায় গৌতম কুমার সরকার, এসরাজে মো. আশিকুল ইসলাম, গিটারে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ও কিবোর্ডে রবিনস চৌধুরী।