ঢাকা • বাংলাচারু সাহিত্য পত্রিকা- প্রিন্ট এবং ওয়েব ম্যাগাজিন। সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ |
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ |
কবিতা | নভেম্বর ২, ২০২৬ | Bangla Charu

কৃত্তিবাসের পদাবলী -মৃন্ময় সরকার

জলে ডুবে কবেই মরেছে যমুনা,
বিসর্জনের সুখে গরল নয়—নীলকণ্ঠ উন্মুক্ত বুকে,
আত্মহত্যার কবিতায় যেন এক পসলা শ্রাবণ ঝরে পড়েছে যমুনায়।

যমুনার জলে কপালে আগুন লেগেছে,
গঙ্গার চন্দ্রমুখী আগুনে উদোম বক্ষে পুড়ে গেছে যৌবন।

তিলকের মাটিতে মিশে গেছে পোড়া যৌবন,
ডাগর গতর, সর্বনাশী তিলক-ছোঁয়া গোপিনী।

কত কুলীন পতিতা ডুব দিল গঙ্গায়,
যৌবন-জলসায় জারক যন্ত্রণায়
ধুয়ে গেছে কাজল-তিলক, যৌবন যমুনায়।

পিতৃত্ব-তর্পণ, অস্থি-বিসর্জন—
সেইখানে গঙ্গা, নিত্য যাওয়া-আসা; অন্ধকারে যমুনা।

পরিশ্রমের ঘাম ঝেড়ে ফেলা তীব্র জ্যোৎস্নায়,
অবাসযোগ্য মোহনায় বাবুদের কাদা-জল—
সব এক, শুধু ঘরছাড়া তন্দ্রায়,
চোখের প্রতিবিম্বে কলঙ্কিত চাঁদের কাজলরেখায়।

সমাজের কত দাগ মিলে গেছে
কলঙ্কিত কাজলের লজ্জায়।

ঠোঁটের ছোঁয়ায় আশাহীন কত ভ্রূণ
ভেসে গেছে জলাতঙ্কে,
যেন উচ্ছ্বসিত কাজলরেখায়।

পতিতার প্রেমে, নিষিদ্ধ কাজলের টানে,
যদি বলি—আমার প্রতিটা রাত তোমার কোলে চাই।
তবু সে যে গোপনের মিথ্যে যৌবন।

যত ক্ষুধা মিশে আছে রূপসার জলে,
গোলাপের বোতলে যৌবনের জল।

সম্পানে আশালতার জলোবাস,
সম্ভ্রম ডুবে গেছে বিলাসে—
বাবুদের শপিংয়ে সস্তার যৌবন।

অপুষ্ট যৌবনে ভাগাভাগি ভিখেরি হালখাতা,
গরিবের সম্ভ্রম তলানিতে ষোলোআনা।

গুনগুন মহুয়ার মধু,
২২ ক্যারেটের উত্থিত সোনালি যৌবন।

নিউরনে বেশ্যা,
ধনীদের উলঙ্গ বিমূর্ততা—
শরীরের কালচারে চুমুকেই যমুনা।

যৌবনে উলঙ্গ জলসা,
গরিবের সম্ভোগ—ক্ষুধার রাজ্যে,
বক্ষযুগল, বিভাজিকাহীন পূর্ণিমা।

নিয়ন আলোয় জারক রসের জ্বালা,
শরীর-সজ্জায় বেশ্যা, না হয় পতিতা।

বেশ্যা ডুবে মরে গঙ্গায়;
মিটি মিটি বেশ্যার হাসি আছে চরণামৃতের গঙ্গায়।

শেয়ার করুন: