
‘দেশে বিদেশে’ শুধু একটি ভ্রমণকাহিনি নয়, এটি আফগানিস্তানের সমাজ, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের এক জীবন্ত দলিল। বইটি তার কাবুল ভ্রমণের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লেখা। এতে তিনি কাবুলের জীবন, সেখানকার মানুষের আচরণ, দৈনন্দিন জীবনযাপন এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন এক সরল ও রসাত্মক ভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন যা অনবদ্য।
আবদুর রহমান নামক বিশালদেহী পাঠান চরিত্রটি এই গ্রন্থের একটি বিশেষ আকর্ষণ, যা বইটির সরস বর্ণনাকে আরও প্রাণবন্ত করেছে। বইটির সূক্ষ্ম রসবোধ এবং প্রাণবন্ত গদ্য একে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভ্রমণকাহিনিতে পরিণত করেছে।
লেখার পেছনের গল্প
‘দেশে বিদেশে’র রচনার পেছনে মুজতবা আলীর ভগ্নিপতি জাহানারার প্রতি ভালোবাসা এবং তার করুণ পরিণতি গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছিল। জাহানারার স্মৃতিকে অমর করে রাখতে তিনি এই গ্রন্থ উৎসর্গ করেন। লেখক নিজেই বলেছেন যে, জাহানারার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা এবং প্রেরণাই বইটি লেখায় উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন ।
লেখায় ছিল মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং জীবন সম্পর্কে গভীর বোধ। তিনি সহজাত রসবোধ ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মানুষের মনোজগতের চিত্র এঁকেছেন, যা বাংলা সাহিত্যে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে। ভ্রমণকাহিনি ও রম্যরচনার মধ্যে রসের আড়ালে গভীর জীবনবোধের মিশ্রণই লেখার শক্তি।
সৈয়দ মুজতবা আলী বাংলা সাহিত্যকে শুধু সমৃদ্ধই করেননি, একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। রচনার সহজ-সরল ভঙ্গি, ভাষার বৈচিত্র্য এবং মানবিক অনুভূতি বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের জন্য চিরন্তন সম্পদ। তিনি বাংলা সাহিত্যের জন্য এক অনির্বাণ আলো, যা অনন্তকাল ধরে পাঠকদের পথপ্রদর্শন করবে।