শুক্রবার , ৫ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

কবিতা

এস এম কাইয়ুম এর কবিতা সাঁড়া-চক্রের নক্‌টার্ন

মৃত্তিকা জানে, এই ঘর কেবলই প্রতিধ্বনি জমায় খুচরোর মতো। চাবি ঘুরিয়ে যে অন্ধকার ঢোকে; তা আসলে আলোরই অন্য জন্ম— ‘একমেবাদ্বিতীয়ম’ । সেই জন্ম অন্য কারও উঠোনে কদমফুলের কচি মুখ দেখে ফেরে। পরম পার্থক্য, পরম পরতা।

মায়া, কেবলই হেমন্তের রঙে ঢাকা গ্রীষ্মের গোপন উত্তাপ।

পুরাতন ক্যালেন্ডারের হলুদ পাতায় লেপ্টে আছে পৌরাণিক ক্ষুধা। আজকের ভোর, সেও এক মিথ—হাজার বছরের ক্লান্ত সিসিফাসের শ্রম। সেই শ্রম, যা প্রত্যহ একটি ভাঙা টি-কাপ হাতে দাঁড়িয়ে থাকে ফ্ল্যাটের বারান্দায়। কফি-মেকারে জলের ফোঁটা পড়ছে না, ঝরছে সহস্র জন্মের সাঁড়া-চক্র।

বৃষ্টি থেমে গেছে, অথচ জানালার কাঁচে এখনো ভিজে থাকা দৃশ্য। একটি চায়ের কাপ ঠান্ডা হতে থাকে— প্লেটোনিক অনন্তে। কিয়ের্কেগার্দ কি এমন লাফের কথাই বলেছিলেন? পা তোলা… না-তোলা— একই? এই শহরে প্রতিদিনই কেউ না কেউ নিজের ছায়াকে চুমু খায়, কম্পনের আড়ালে ফাটল ধরেছে কাঁচের গ্লাসে রাখা জল— ভেতরে ডুবে আছে একটি রবারের হাঁস। সেটি ফিউচারিজমের গতিতে সাঁতরাচ্ছে না, সে কেবলই প্রতিবিম্ব। যেন শপেনহাউয়েরের ‘ইচ্ছা’—চিরকাল পূর্ণতা হারায়।

মিথুন-মূর্তি, স্নানে রত— অদৃশ্য জল। তার শরীরের প্রতিটি রেখা, অন্য কারো হাতের সোনালি স্বাক্ষর।  একটি ক্যাকটাস ফোটে মধ্যরাতে—কাঁটাগুলো ফ্রয়েডীয় অদম্য কামনার সূচক। কদমগাছটি দাঁড়ানো, সে জানে: যা দেখা যায়, তা সবই লীলা; যা দেখা যায় না, তাই নক্‌টার্ন। ঘুম, অন্য জীবনের অভিনয়; জাগরণ কেবলই শূন্যতার আভাস।

 

 


আরও